ঢাকা , বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেইমার কতক্ষণ খেলবেন, জানালেন আনচেলত্তি নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা, ঠেকিয়েছে বিজিবি ক্লাসে ‘বডি স্প্রে’ ব্যবহার, অসুস্থ হয়ে ১৫ শিক্ষার্থী হাসপাতালে ইরানকে নিয়ে অবশেষে কিছুটা নরম আমেরিকা! ম্যাচের দু’দিন আগে সে দেশে যেতে পারবেন তারেমিরা নেমার ফিট, তবু স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে অনিশ্চিত! জানালেন ব্রাজিলের কোচ, বুধবার খেলতে পারবেন না রাফিনহা, কে ঢুকবেন দলে? ভাজাভুজি বাদ, আহার পরিমিত, চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে জল খেয়েও কমছে না মেদ! সমস্যা কী হতে পারে ‘আমি তোমার ইয়ারদোস্ত নই!’ সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বে সীমারেখা জরুরি আমিরপুর ফেরিঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাসিক প্রশাসকের নির্দেশক্রমে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিনিধি দল কলকাতায় গুদামের ছাদ ধসে ৩ জনের মৃত্যু সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের আওতায় আসছে মুদি দোকান, বিউটি পার্লার ছাত্রলীগ নেতার প্রতারণায় সোনাসহ সব খুইয়ে পথে বসেছেন নারী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু গাইবান্ধায় ফাস্টফুডের দোকানে ডেকে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ম্যানেজারের ফাস্টফুডের দোকানে ডেকে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ম্যানেজারের রাশমিকার খোলামেলা ভিডিও ভাইরাল! দিনাজপুরে অনলাইন জুয়াচক্রের ৪ ‘মাস্টারমাইন্ড’ গ্রেপ্তার মাদরাসাছাত্রীকে নাতনি ডেকে ঘরে নিয়ে যান বৃদ্ধ, অতঃপর... অজানা নম্বর থেকে মেসেজ করছে কে? সতর্ক করবে হোয়াট্‌সঅ্যাপ চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুদের ছুরিকাঘাতে যুবক খুন ব্যাংক খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা

  • আপলোড সময় : ২৬-০২-২০২৬ ১০:২৪:৪৪ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-০২-২০২৬ ১০:২৪:৪৪ অপরাহ্ন
তানোরে ফের লোকসানের মুখে আলু চাষিরা ফাইল ফটো
রাজশাহীর তানোরে আগাম আলু চাষিরা ফের লোকসানের মুখে পড়েছেন। এবার আগাম জাতের আলুর ফলন তুলনামূলক ভালো। তবে দাম না থাকার সঙ্গে ঢলন প্রথায় আলু চাষিরা হতাশ। আলু বিক্রি করতে প্রতি মণে ৫ কেজি ঢলন (অতিঃ) আলু দিতে হচ্ছে।

সম্প্রতি, তানোর পৌরসভার গোকুল মোড়ে ট্রাকে আলু লোড করতে দেখা যায় শ্রমিকদের। পাশেই মলিন মুখে  বসে আছে আলু চাষি ফিরোজ। তিনি বলেন, আগাম জাতের আলু চাষ করে এবার খরচের অর্ধেক টাকাও তুলতে পারছেন না চাষিরা। গত মৌসুমে একইভাবে লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার ঘুরে দাড়ানোর আশা নিয়ে বিলপাড়ের উঁচু জমিতে পুনরায় আগাম জাতের আলু চাষ করে ধরাশায়ী হয়েছেন। আলু চাষি ফিরোজ বলেন, তিনি এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। ফলন যা হয়েছে তুলনামূলক ভালো।

বিঘায় ফলন হয়েছে প্রায় ৫০ বস্তা (৭০ কেজি) করে। কিন্তু বাজারে নতুন আলুর দাম নাই। বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি করা হয়েছে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে। এক বস্তায় ৭০ কেজি আলু নিলেও ৬৫ কেজির দাম দেয়া হচ্ছে। সব মিলে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা আসছে। এতে বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে লোকসান হচ্ছে।

আলু চাষি রইচ উদ্দিন জানান,তিনি সাড়ে তিন বিঘা আলু উত্তোলন করে সাড়ে ৯ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। অপর কৃষক জানান,তিনি আড়াই বিঘা জমির আলু সাড়ে ৯ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন। তারা জানান বিঘায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাচ্ছে ২৬ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। বিঘায় ৩২ হাজার টাকা লোকসান হলে পথে বসা ছাড়া উপায় আছে। আবার ঢলন বাবদ ৫ কেজি করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। ৭০ কেজির বস্তা লোড হলেও ৬৫ কেজির দাম পাচ্ছি। যে কারণে প্রতি বস্তায় ৪৭ টাকা ৫০ পয়সা করে পাওয়া যাচ্ছে না। সেই হিসেবে ঢলন বাবদ প্রতি বিঘায় ২৫০ কেজি করে বাড়তি আলু নিচ্ছে ব্যবসায়িরা। যার দাম লাগছে ২ হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫ কেজি করে ঢলন না দিলে তারা আলু কিনছে না। ঢলন টাই নাকি তাদের লাভ। কারণ আলুর দাম নাই। আবার এখান থেকে আলু ট্রাকে করে খুলনায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবেন। এখান থেকে খুলনা যাওয়া ও সেখানে গিয়ে অপেক্ষা করার পর আলু বিক্রি করে। এজন্য জমির কাঁচা আলু নাকি অনেক শুকিয়ে যায়।

তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপস্থিত হন ব্যবসায়ী আইনুল, তিনি জানান, এসব আলু সব যাবে খুলনা। সেখানে গিয়ে খুববেশি হলে কেজিতে এক টাকা থেকে দু'টাকা বাড়তি দামে বিক্রি করা যাবে। ঢলনের নামে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে আলু নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি জানান, জমি থেকে একেবারেই কাঁচা আলু কিনা হচ্ছে। খুলনা মোকামে যেতেই অনেক ওজন কমে যায়। আবার কয়েকদিন বিক্রি করতে না পারলে বেশি পরিমান কমে। এ জন্য ঢলন নিতে হয়।

অপর ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন,গত বছরের মতো এবছরেও আলুতে ধরাশায়ী চাষিরা। কারণ বিঘায় খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা আর বিক্রি করে পাচ্ছে ২৫ থেকে ২৮ হাজার টাকা। বিঘায় ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

মুনসুর নামের এক আলু চাষি জানান, রাব্বানী ২৫ কাঠা জমির আলু তুলে সাড়ে ৯ টাকা কেজি করে বিক্রি করেছেন। গতবার তিনি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করে ধরা খেয়ে এবার কমিয়ে ৪ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেন।

চাষিরা জানান, পুরোদমে আলু তোলা শুরু হয়নি। যারা আগে আলু রোপন করেছিলেন তাদের আলু উঠতে শুরু করেছে।  অবশ্য এবার জমি লীজ ও বীজ আলু কম দামে পাওয়ার কারনে উৎপাদন খরচ কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার কীটনাশকের অতিরিক্ত দামের কারনে অনেকটা বেড়েছে উৎপাদন খরচ।এদিকে কৃষকেরা জানান, আলুর বস্তা নিয়েও শুরু হয়েছে সিন্ডিকেট। আলুর দাম নেই,তবে আলুর বস্তার দাম গত বছরের চেয়ে ৩৫ টাকা বাড়তি নেয়া হচ্ছে। কৃষকদের দাবি গুদামঘরে লাখ লাখ বস্তা আছে যা তাদের ক্রয় মূল্য ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা হলেও তা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়।

তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা  সাইফুল্লাহ আহম্মেদ জানান, এবারে উপজেলায় ১২ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫০ হেক্টর জমির আলু তুলা হয়েছে। হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টন করে ফলন হয়েছে।

দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের কাজ হচ্ছে চাষাবাদে রোগ বালাই আছে কি না ও রোগ বালাই হলে দূর করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দামের বিষয় কৃষি বিপণন বিভাগের কাজ।

এবিষয়ো কৃষি বিপণন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) শাহানা আখতার জাহানের মোবাইলে একাধিক বার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ না করার কারনে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত